একজন মানুষ, যিনি অসংখ্য মানুষের জন্য অক্সিজেন পৌঁছে দিয়েছেন... আজ তাঁর পরিবারের জন্য আমাদের হাত বাড়ানোর সময়।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
আমাদের প্রিয় সহযোদ্ধা, সংযোগ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং অক্সিজেন বিশেষজ্ঞ আব্দুল খালেক কচি আর আমাদের মাঝে নেই।
২০০৪ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET) থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করা কচি ভাই কর্মজীবনে দীর্ঘদিন লিন্ডে বাংলাদেশ (সাবেক BOC)-এ সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি জাপানি প্রতিষ্ঠান Kobelco-তে কর্মরত ছিলেন।
কোভিড-১৯ মহামারির সবচেয়ে কঠিন সময়ে, যখন দেশের মানুষ অক্সিজেনের জন্য হাহাকার করছিল, তখন কচি ভাই সংযোগ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে থেকে দিন-রাত কাজ করেছেন। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে অক্সিজেন সিলিন্ডার, অক্সিজেন সিস্টেম, হাসপাতাল সহায়তা এবং নিরাপদ অক্সিজেন ব্যবহারের প্রশিক্ষণ—সবখানেই ছিল তাঁর নিরলস উপস্থিতি। অসংখ্য মানুষ তাঁর জ্ঞান, শ্রম ও মানবিকতার ঋণ কখনো শোধ করতে পারবে না।
৩০ জুন ২০২৬, সকালে অফিসে যাওয়ার আগে নিজের ছোট ছেলে জাওয়াদকে স্কুল থেকে আনতে যান তিনি। স্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে একবার স্নেহভরে ডাকলেন, "জাওয়াদ..."।
সেই ডাকই ছিল তাঁর শেষ ডাক।
কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে সকাল ১০:৫১ মিনিটে তিনি মহান রবের ডাকে সাড়া দেন।
আজ তাঁর স্ত্রী একা। তিনটি সন্তান হারিয়েছে তাদের সবচেয়ে বড় আশ্রয়, সবচেয়ে নিরাপদ ছায়া।
একজন বাবা চলে গেলে শুধু একজন মানুষ হারিয়ে যায় না—একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে যায়।
আসুন, আমরা তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়াই
সংযোগ ফাউন্ডেশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী অন্তত পাঁচ বছর কচি ভাইয়ের পরিবারের পাশে থাকবে। বিশেষ করে তাঁর তিন সন্তানের শিক্ষা এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই ফান্ডরেইজার পরিচালিত হবে।
কচি ভাই জীবিত অবস্থায় মানুষের জীবন বাঁচাতে কাজ করেছেন।
আজ তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই হবে তাঁর প্রতি আমাদের সবচেয়ে সুন্দর শ্রদ্ধাঞ্জলি